জয়পুরহাটে হত্যা, হত্যা চেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জয়পুরহাট অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলি আদালত-১ এ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বিচারক মিলন চন্দ্র পাল। আদালতের নির্দেশে ৬ আসামিকে পুলিশ পাহারায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুইটি হত্যা মামলা এবং আরও চারটি হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় অভিযুক্ত এই নেতারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তাদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী জামিনের শুনানি করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—জয়পুরহাট সদরের দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল আলম সুমন, পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিহাদ মণ্ডল, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম পিন্টু চৌধুরী, জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর দেওয়ান ইকবাল হোসেন সাবু, ওলিউজ্জামান বাপ্পী এবং ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম।
তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে জয়পুরহাটে ছাত্র নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য।
একটি মামলায় নিহত ছাত্র নজিবুল সরকার ওরফে বিশালের পিতা শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অন্য একটি মামলায় নিহত মেহেদীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার ২১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এসব মামলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফাহাদ অনিক তালুকদার জানান, আদালতে তারা জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন, তবে আদালত তা গ্রহণ না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলাগুলোর গুরুত্ব ও আসামিদের ভূমিকা বিবেচনায় জামিন দেওয়া হলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
কসমিক ডেস্ক