খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় পাহাড় খেকোদের আগ্রাসন দিনদিন বেড়ে চলেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত পাহাড় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এক চক্র। তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক পাহাড় সাবাড় করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও পাহাড় খেকোদের কার্যক্রম থামানো সম্ভব হয়নি।
তাদের সর্বশেষ লক্ষ্য ছিল যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া এলাকা। সেখানে মো. মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা বিশাল জায়গা জুড়ে কয়েকটি পাহাড় কেটে সাবাড় করছিলেন। খবর পেয়ে রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা তাহিরার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দুটি স্কেবেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় পাহাড় কেটে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সঙ্গে যুক্তরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। অভিযানের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়লাল চাকমা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরা জানিয়েছেন, অভিযানে পাওয়া আলামত অনুযায়ী বেশ কয়েকটি পাহাড় কেটে ধ্বংস করার প্রমাণ মিলেছে। জব্দকৃত স্কেবেটরগুলোসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের আওতায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “উপজেলা প্রশাসন এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং পাহাড় ধ্বংসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়রা জানান, পাহাড় খেকোদের আগ্রাসনের ফলে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না, বরং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। পাহাড় ধ্বংসের ফলে মাটির ক্ষয়, বন্যাপ্রবণতা বৃদ্ধি এবং নদী-নালা দুষণের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
একই সঙ্গে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পাহাড় ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই চক্র আরও বৃহৎ ক্ষতি করতে পারে। তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মিলে নিয়মিত নজরদারি, অভিযান এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পাহাড় রক্ষায় তৎপর রয়েছে।
সংক্ষেপে, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার পাহাড়গুলো রক্ষায় প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া এলাকায় পাহাড় কাটার আলামত পাওয়ায় দুটি স্কেবেটর জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও পরিবেশ আইনের আওতায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালিত হওয়ায় পাহাড় রক্ষায় সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক