বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। তার ভাষায়, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ একটি নতুন পথে যাত্রা শুরু করবে, যেখানে থাকবে ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি মহেশখালী উপজেলায় পৃথক আরেকটি জনসভায় অংশ নেন।
জামায়াত আমির বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধরনের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী নন। এমপি, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী—যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতিই তারা প্রতিষ্ঠা করতে চান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কক্সবাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানো গেলে এই জেলা দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে এর জন্য সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারা নিজেরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন এবং জনগণকেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। তার মতে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়; এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন এবং মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। তার ভাষায়, তারা এমন বাংলাদেশ চান যেখানে নারীরা নিরাপদ থাকবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কথা দিয়ে কথা রাখে এবং জীবিত থাকলে কোনো ওয়াদা ভঙ্গ হবে না, ইনশাআল্লাহ। এ সময় তিনি জনসভায় উপস্থিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে নেতৃত্ব দিতে তরুণদেরই সামনে আসতে হবে। এই বাংলাদেশ তাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে মহেশখালীর জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু নিজেদের বিজয় নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। জনগণের বিজয়ই প্রকৃত বিজয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা জামায়াত সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।