জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ততই বাড়ছে নির্বাচনী ব্যস্ততা। ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা চালাচ্ছেন জোর প্রচারণা। এবারের নির্বাচনে এই চার আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী বেশি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যেই।
তবে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বিএনপির প্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কা। প্রতি আসনেই দলটির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএনপি সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে, এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচনী পরিবেশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও উঠে আসছে আলোচনায়। ফকিরহাট উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি নির্বাচনে আশ্বাস মিললেও ভোটের পর জনপ্রতিনিধিদের আর মাঠে দেখা যায় না। তার ভাষায়, এবার তারা এমন প্রতিনিধি চান, যিনি সারা বছর জনগণের পাশে থাকবেন।
শরণখোলার জেলে মনিরুল ইসলাম বলেন, দস্যু আতঙ্ক ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলেদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্যোগকালে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা জাবের শেখ বলেন, জেলা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাগেরহাটে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। সামান্য জটিল রোগে খুলনা বা ঢাকায় ছুটতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য।
মোংলার বাসিন্দা দীপঙ্কর দাস বলেন, মোংলা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
নারী সমাজকর্মী নিলুফা আক্তার বলেন, গ্রামাঞ্চলে নারীরা এখনো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বৈষম্যের শিকার। তিনি এমন জনপ্রতিনিধি চান, যারা নারীর অধিকার বাস্তব নীতিমালার মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন।
এবারের নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে ৭ জন, বাগেরহাট-২ আসনে ৩ জন, বাগেরহাট-৩ আসনে ৪ জন এবং বাগেরহাট-৪ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এম. এ. এইচ সেলিম তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় রয়েছেন।
বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিশ্রুতির নয়—বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার পরীক্ষা।
৭৫টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬১ হাজার ১১১ জন। ভোট গ্রহণের জন্য ৫৪৭টি ভোটকেন্দ্রে ২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী অনেক হলেও বাগেরহাটের ভোটাররা এবার এমন নেতৃত্বই বেছে নিতে চান, যাদের ওপর আস্থা রাখা যায় এবং যারা নির্বাচনের পরও মাঠে থেকে মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবেন।
কসমিক ডেস্ক