ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মানবিক সংকটের ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে খোকন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ দুই দিন ধরে হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে, কিন্তু তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত অবস্থায় গত ২৪ মার্চ খোকন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে মারা যান।
মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত করা হয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের মাধ্যমে। এতে জানা যায়, তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের করুইন গ্রামে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবার নাম বশির উদ্দিন এবং মায়ের নাম মধুবালা বিবি।
পুলিশ পরিবারকে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে খোকন মিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। সেই কারণে তারা মরদেহ গ্রহণেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
হাসপাতালে চিকিৎসাকালে প্রথমে তাকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অর্থোপেডিক্স বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তারা খোকন মিয়ার সেবা ও দেখভাল করে আসছিলেন। মৃত্যুর পর তারা পুলিশ ও পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। তবে পরিবার থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে দাফনের দায়িত্ব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির ওপরই অর্পণ করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে এখনো দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, শেষ সময়ে হলেও পরিবার মরদেহ গ্রহণে এগিয়ে আসবে।
অন্যদিকে, খোকন মিয়ার ছেলে রানা মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। তবে তিনি বলেন, লাশটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলে তারা গ্রহণ করতে পারেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা যে কতটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনা তা আবারও সামনে এনেছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিবার শেষ পর্যন্ত মানবিক দিক বিবেচনা করে মরদেহ গ্রহণ করে যথাযথভাবে দাফনের ব্যবস্থা করবে।
কসমিক ডেস্ক