সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য নেন।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো সিলেট শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদী-এর দুই তীরে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি শহরের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে হাঁটার পথ, সবুজায়ন, বসার জায়গা এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাবে।
এতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং স্থানীয়দের জন্য বিনোদন ও পর্যটনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। নদীর তীরকে ঘিরে একটি পরিকল্পিত নগর পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা এই প্রকল্পকে সিলেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, সুরমা নদীর তীর দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার ছিল। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা ছিল নিয়মিত সমস্যা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প নগর উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে তারা প্রকল্পের স্বচ্ছতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সব মিলিয়ে সিলেটের এই উন্নয়ন প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং নগরীর সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় ও মান বজায় রেখে কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
কসমিক ডেস্ক