মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীর ছোট বোনকে কুপিয়ে হত্যা, বগুড়ায় গ্রেপ্তার ৫ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীর ছোট বোনকে কুপিয়ে হত্যা, বগুড়ায় গ্রেপ্তার ৫

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 22, 2026 ইং
মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীর ছোট বোনকে কুপিয়ে হত্যা, বগুড়ায় গ্রেপ্তার ৫ ছবির ক্যাপশন:

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার উজ্জলতা গ্রামে মামলা প্রত্যাহার না করাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় উম্মে হাবিবা উর্মি নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ হামলায় একই পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজ্জলতা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটনের ছেলে ফারসিদ তালুকদারকে পথরোধ করে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই ঘটনায় ফারসিদের মা উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে মামলায় চার্জশিট দাখিল করলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী উম্মে হাফিজা, তার স্বামী ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধ রক্তক্ষয়ী হামলায় রূপ নেয়।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায়, ইফতারের আগ মুহূর্তে, ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের কহির ফকির, দুলালী বেগম, এখলাস হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধরের সময় পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়।

একপর্যায়ে লিটনের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং বেড়াতে আসা তার শালিকা উম্মে হাবিবা উর্মি প্রাণ বাঁচাতে পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও হামলাকারীরা ধাওয়া করে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। কুড়াল, হাসুয়া ও লাঠি দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এতে উম্মে হাফিজা, ফয়সাল ইসলাম তালুকদার লিটন, ফারসিদ তালুকদার, নুসরাত জাহান নিহা এবং উম্মে হাবিবা উর্মি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে উম্মে হাবিবা উর্মির মৃত্যু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর হামলাকারীরা সুযোগ বুঝে বাদীপক্ষের বসতবাড়িতেও হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরদিন শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে নিহত উম্মে হাবিবা উর্মির বোন উম্মে হাফিজা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কহির ফকির, দুলালী বেগম, আইয়ুব হোসেন, এখলাস হোসেনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বের মামলা ঘিরে চলমান বিরোধ এবং আসামিপক্ষের চাপ-হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এখন তারা দ্রুত বিচার এবং জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা শোকই নয়, বরং মামলা পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বাদীপক্ষের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একটি মামলা প্রত্যাহার না করায় এভাবে হামলা ও হত্যার অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা—বাদী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কতটা দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গাজা প্রশাসনে নতুন কাঠামো, ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা ট্রাম্পের

গাজা প্রশাসনে নতুন কাঠামো, ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা ট্রাম্পের