বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে মৎস্য দপ্তর। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ২০৩ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিন-রাত অভিযান চালানো হয়। মেঘনা নদীর হিজলা অংশে টানা দুই মাস এই অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, এ সময়ে মোট ২০৪টি পৃথক অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ২০৩ জন জেলে আটক করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ২০৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪৪টি পৃথক মামলায় বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
অভিযানের সময় চারজন জেলেকে নিয়মিত মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মৎস্য দপ্তর আরও জানায়, অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে এসব জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে।
অভয়াশ্রম এলাকায় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। তবে কিছু অসাধু জেলে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরার চেষ্টা করে, যার ফলে নিয়মিত অভিযান চালাতে হয় বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মেঘনা নদীর হিজলা অংশে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অভয়াশ্রম এলাকায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জেলেদের একাংশ অভিযোগ করেন, বিকল্প জীবিকা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নদীতে নামেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অভিযানের মাধ্যমে মেঘনা নদীতে মাছের প্রজনন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক