পাবনায় মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মৃতপ্রায় খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার পদ্মকোল খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসও পূর্ণ হয়নি, তবুও এরই মধ্যে জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অত্যন্ত সংকটময় সময়ে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এরপরও জনগণের কল্যাণে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ ও মন্দিরের ইমাম-পুরুহিতদের সম্মানী ভাতা প্রদান এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও কৃষক দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালভিত্তিক সেচব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে খাল খননের মাধ্যমে সেই সেচব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে মৃতপ্রায় খালগুলোতে আবার পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এর ফলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাল পুনরুদ্ধারের ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
এতে খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মরে যাওয়া খাল ও নালাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো পাবনাতেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে খাল খননের কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ অনেকে।
জানা গেছে, পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে মন্ডলমোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মকোল খালটি পাবনা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইছামতী নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
খালটি প্রায় ছয় ফুট গভীর এবং গড়ে ৪০ ফুট প্রশস্ত করে খনন করা হবে।
এই খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে পদ্মা নদী থেকে ইছামতী নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর ফলে হেমায়েতপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের কৃষিজমিতে সহজেই সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় পাবনা জেলায় মোট ১০৬টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক