টানা তিন দফা সোনার দাম হ্রাসের পর আবার দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ২৭ মার্চ বাজুস দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হ্রাস করে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ১৫৭ টাকা, যা দেশের সোনার বাজারে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ।
সোনার দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বাজুস স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছে। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দিক থেকে সোনার চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোনার বাজারে এ ধরনের ওঠাপড়ার ফলে ক্রেতাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিশেষ করে যারা বিনিয়োগ বা গহনার জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন।
বাংলাদেশে সোনা শুধুমাত্র মূল্যবান জিনিস নয়, বরং এটি একটি প্রচলিত বিনিয়োগ মাধ্যম। তাই প্রতিদিনের দামের পরিবর্তন ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২২ ও ২১ ক্যারেট সোনা এবং বিভিন্ন কেরেটের মানের দাম পরিবর্তন বাজারে ক্রেতাদের আচরণে প্রভাব ফেলে।
বাজুস নিয়মিতভাবে দেশের সোনার বাজারের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বিবেচনা করে দামের সমন্বয় ঘটায়। বর্তমানে দেশজুড়ে সোনার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
সুতরাং, যারা সোনা বিনিয়োগ বা ক্রয়ের পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য নতুন দামের তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাদের উচিত স্থানীয় বাজারের দাম যাচাই করে কেনাকাটা করা, যাতে সর্বোত্তম মূল্য নিশ্চিত করা যায়।
কসমিক ডেস্ক