ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধ পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান কাজী আব্দুর রশিদ (৭০) নামের ওই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কাজী আব্দুর রশিদ স্থানীয় নিশিন্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং আবেদ আলী শেখের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু সেই স্বাভাবিক যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ পথ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিশিন্দা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি বাশার মিলের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালককে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি জব্দ করে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অত্যন্ত ব্যস্ত এবং এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে নির্ধারিত ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে পথচারীরা সড়ক পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয়রা মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড স্থাপন এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। একই সঙ্গে পথচারীদেরও নির্ধারিত স্থান দিয়ে সড়ক পার হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা দ্রুতগতির কারণে কত সহজেই একটি প্রাণ ঝরে যেতে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক