বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে, যা আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে সরবরাহ করা হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাতে এই চালান গ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অপারেশনস ম্যানেজার কাজী মো. রবিউল আলম জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল গ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আসার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি পৃথক চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে প্রথম চালান হিসেবে ৮ হাজার মেট্রিক টন এসে পৌঁছেছে। বাকি চালানগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে চারটি চালানে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। এই ধারাবাহিক আমদানি কার্যক্রম দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে এই ডিজেল সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত রেলহেড ওয়েল ডিপোতে পৌঁছানোর পর জ্বালানি তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি পরিবহন খরচ কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাকে দ্রুত ও নিরাপদ করেছে। এটি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা বাংলাদেশকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহায়তা করছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ভারত থেকে নতুন করে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক