মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন Donald Trump। তার মতে, এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি জানান, চুক্তির বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যেই সমাধানের পথে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক খবর পাওয়া যেতে পারে।
চলমান আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না। পাশাপাশি দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও ত্যাগ করতে সম্মত হতে পারে।
এই ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মজুদের একটি অংশের সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে—সম্ভবত Russia—স্থানান্তর করা হতে পারে।
International Atomic Energy Agency (আইএইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এটি অস্ত্র-মানের ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের খুব কাছাকাছি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। আলোচনায় রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। এর ফলে ইরান আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং তাদের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ, যা বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে Israel। দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখনও তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে সক্রিয় হিজবুল্লাহকে তারা একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেবে। এমনকি প্রয়োজন হলে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকারও তারা সংরক্ষণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সীমিত বা বন্ধ করার দিকে এগোয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন, আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরানের পারমাণবিক সিদ্ধান্ত শুধু একটি দেশের নীতিগত বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এখন বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছে, শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান।
কসমিক ডেস্ক