গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, বরিশাল জেলা। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার ইচলাদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো এলাকায় একটি বড় সমাগমের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়। মিছিলটি ইচলাদি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরে মিছিলটি পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল খালেক। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নান মাস্টার, বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইয়েদ আহমেদ খান, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজম খান, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো. কাওসার হোসেন এবং উপজেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসাইন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা সদস্যসচিব মো. আবু সাঈদ ফেরদৌস ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও সংগঠিত ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তারা দাবি করেন, এই রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব করা উচিত নয়। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় থাকে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। একটি বড় ব্যানারে লেখা ছিল “গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল”। ব্যানারের দুই পাশে মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীক ব্যবহার করা হয়, যা তাদের প্রতিবাদের শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। পুরো সময়জুড়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন হয়নি। এতে করে বোঝা যায়, অংশগ্রহণকারীরা শৃঙ্খলা বজায় রেখে তাদের দাবি তুলে ধরেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি জনগণের মতামত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনমত প্রতিফলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
সার্বিকভাবে, উজিরপুরে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং ব্যাপক অংশগ্রহণে ভরপুর। বক্তাদের বক্তব্য এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।