দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) তারেক রহমান বগুড়ায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সোমবার বেলা ১১টায় বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বগুড়ার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে বগুড়ার প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা হয় ব্রিটিশ আমলে। ১৮২১ সালে বগুড়াকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৮৬৯ সালে শহর পরিচালনার জন্য একটি টাউন কমিটি গঠিত হয়, যার চেয়ারম্যান ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক ডব্লিউ ওয়াভেল।
পরবর্তীতে ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুরসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত হয় বগুড়া মিউনিসিপালিটি। তখন এর আয়তন ছিল মাত্র ১ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বগুড়া পৌরসভার পরিধি ও গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ১৯৮১ সালে এটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয় এবং ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। পরে ২০০৬ সালে পৌরসভার চারপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে এর আয়তন বাড়িয়ে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়।
এতসব উন্নয়ন সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া সিটি করপোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। অথচ আয়তন, জনসংখ্যা এবং রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এটি দেশের অন্যতম বড় পৌরসভা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
এদিকে দেশের অন্যান্য অনেক পৌরসভা ইতোমধ্যেই সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও বগুড়া পিছিয়ে ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে অসন্তোষ ছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করার পরও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এতদিন এই উন্নীতকরণ বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নতুন করে গতি পায়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং জনগণের মতামত সংগ্রহ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
এরপর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (প্রাক-নিকার) সভায় বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বগুড়ায় এসে এই ঘোষণা দেবেন।
বগুড়াবাসীর আশা, সিটি করপোরেশন হিসেবে উন্নীত হওয়ার ফলে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উন্নীতকরণ শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
সব মিলিয়ে, সোমবারের এই উদ্বোধনের মাধ্যমে বগুড়ার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।