জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সৌরশক্তির ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সৌরশক্তির ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 16, 2026 ইং
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সৌরশক্তির ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে—এমন পরামর্শ উঠে এসেছে একটি বিশেষ আলোচনা সভা থেকে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-চট্টগ্রাম’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্যাব বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী।

আলোচনায় বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি কাঠামো এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৬৫ শতাংশ এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি হয়, যা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতা দেখা দিলেই বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের শুরুতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।

এছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পরিবহন খরচ ও কৃষি সেচ ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বক্তারা নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেন। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং অন্যান্য টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভায় পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলা হয়, বাংলাদেশে যদি প্রায় ৪ কোটি পরিবারের একটি বড় অংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তাহলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ সংকট কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ও হবে।

সংকট উত্তরণে ১৩ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম আমদানিতে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, সরকারি ও বেসরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, কৃষিতে সৌরচালিত সেচ পাম্প সম্প্রসারণ, পরিবহনে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান।

এছাড়া জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অগ্রাধিকার দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এখনই জ্বালানি কাঠামো পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতে দেশ আরও গভীর অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। তাদের মতে, বর্তমান সংকটই হতে পারে টেকসই ও স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সুযোগ।

সব মিলিয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়াকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা বাড়লে খামেনির বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপের ইঙ্

বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা বাড়লে খামেনির বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপের ইঙ্