পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে Dhaka Metropolitan Police (ডিএমপি)। এ সময় যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে এই কাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তির অস্বাভাবিক আনাগোনা, বারবার মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা কিংবা হঠাৎ করে অচেনা লোকজনের জমায়েত হলে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হবে। এসব পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীকে একত্র হয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তির আচরণ বা কার্যকলাপ সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
ঈদের সময় রাজধানীতে মানুষের চলাচল কমে যায় এবং অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা থাকে। এই সুযোগে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল বাড়ানো, চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো তথ্য প্রদান করা হলে অনেক অপরাধ আগেই প্রতিহত করা সম্ভব।
সার্বিকভাবে, ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন থাকে।
কসমিক ডেস্ক