বগুড়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলনেও কৃষকদের লোকসানের শঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বগুড়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলনেও কৃষকদের লোকসানের শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
বগুড়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলনেও কৃষকদের লোকসানের শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:

উত্তরের জেলা Bogura District, Bangladesh-তে এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বরং বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তা ও লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভ করতে পারছেন না।

মাঠ পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ফলে অনেকেই এখনো জমি থেকে পরিপক্ক পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন না। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে দাম কিছুটা বাড়লে তখন পেঁয়াজ বাজারজাত করবেন।

জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে Sariakandi Upazila, Bogura, Bangladesh, Sonatala Upazila, Bogura, Bangladesh, Dhunat Upazila, Bogura, Bangladesh, Shajahanpur Upazila, Bogura, Bangladesh এবং Shibganj Upazila, Bogura, Bangladesh উপজেলায় ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, বিশেষ করে যমুনা নদীর চরে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলায় এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে চাষ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমির পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ মণ, যা কৃষকদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হলেও বাজারমূল্য কম থাকায় সেই সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সারিয়াকান্দির কাজলার চরের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, তিনি এ বছর Jamuna River, Bangladesh-এর জেগে ওঠা চরে ৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ভালো ফলনের আশায় তিনি সার, বীজ, পানি, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচসহ প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, ফলে তেমন লাভ হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে তিনি এখনো তার কিছু জমির পেঁয়াজ উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক কৃষক আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, লাভের আশায় পেঁয়াজ চাষ করলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। শ্রমিকের উচ্চ মজুরি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে তারা এখন লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না।

কৃষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। ফলে আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাজারে নতুন করে সংকট তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, এলাকার বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি কৃষকদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে দাম বাড়লে তারা ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। পাশাপাশি উপজেলার অনেক কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, বগুড়ায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন হবে না: মির্জা ফখরুল

কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন হবে না: মির্জা ফখরুল