চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলার একটি অভিযানে এই ঘটনা ঘটে। উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশন’-এ গ্রাহকদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরেজমিন পরিদর্শন করে।
অভিযোগ ছিল, স্টেশনটিতে জ্বালানি না থাকার কথা জানিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন এবং অনেকেই বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, বাস্তবে স্টেশনটিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী সেখানে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোল, ৫৭৭ লিটার ডিজেল এবং ১৪৬ লিটার অকটেন সংরক্ষিত ছিল। অথচ এসব জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই কৃত্রিম সংকট তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রাহকদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, স্টেশন কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মজুত রেখেও বিক্রি বন্ধ রেখেছিল, যা আইনবিরোধী।
এই অনিয়মের দায়ে ফিলিং স্টেশনটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনটিকে দ্রুত জ্বালানি বিক্রি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই বিক্রি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটের গুজবের কারণে অনেক জায়গায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এমন কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। অন্যথায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোথাও জ্বালানি মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ রাখা বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকারের তদারকি এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক