দীর্ঘ ৩৯ দিনের টানা হামলা-পাল্টা হামলায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও উত্তেজনা এখন নতুন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে United States ও Iran আজ গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে বসছে Islamabad-এ, যা বিশ্লেষকদের মতে ‘মেক অর ব্রেক’ মুহূর্ত।
সংঘাতের সময় Strait of Hormuz বন্ধ করে দেয় ইরান, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে।
অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের এই বৈঠককে স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসলামাবাদে এসে সংলাপে অংশ নেবে। তিনি এই উদ্যোগকে শান্তির পথে একটি বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়াটি এখন একটি ‘কঠিন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে, যেখানে এটি হয় সফল হবে, নয়তো ব্যর্থ—অর্থাৎ এটি একেবারেই ‘মেক অর ব্রেক’ পরিস্থিতি।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। তারা ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন এবং পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। তার সঙ্গে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত Steve Witkoff এবং Jared Kushner।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবে এবং একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
১৯৭৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইতিহাসের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে আলোচনার আগে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে Lebanon-এ Israel-এর হামলা নিয়ে আপত্তি জানায় ইরান। তারা স্পষ্ট করে জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
ইরান আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছে—বিদেশে জব্দ থাকা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক সংঘাতে সম্পৃক্ততা কমানো। এসব শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরুই হবে না বলে সতর্ক করে তেহরান।
দিনভর Tehran, Washington, D.C. এবং ইসলামাবাদের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক যোগাযোগ চলেছে। এর কিছু ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে—বৈরুত ও দাহিয়ায় হামলা কিছুটা কমিয়েছে ইসরায়েল। তবে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় এখনো হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সংঘাতের মূল ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাক এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনুক।
অন্যদিকে, ইরান চায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তাদের পারমাণবিক অধিকার স্বীকৃতি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সমাধান করা হোক।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করলেও সতর্ক করে বলেন, সময়ক্ষেপণের কৌশল যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump কঠোর সুরে জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই সংলাপ শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আলোচনার সফলতা বা ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ।
কসমিক ডেস্ক