কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রবাসে অবস্থানরত এক যুবকের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একাধিক বিয়ে ও সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই জকরিয়াটারী গ্রামে অভিযুক্ত যুবকের বাড়ির সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা অভিযুক্ত যুবকের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে “বর তুমি কার?” স্লোগান দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রবাসে থাকা অবস্থায় ওই যুবক মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে একাধিক বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে অবস্থান করছেন। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই জকরিয়াটারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির দ্বিতীয় ছেলে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রবাসে থাকাকালীন তিনি একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে জিম খাতুনকে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেন। জিম খাতুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জানা যায়, বিয়েটি কোনো কাজী অফিসে নিবন্ধিত হয়নি। বরং ভিডিও কলে পরিবারের উপস্থিতিতে তা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং ভবিষ্যতে দেশে ফিরে সংসার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর পাশাপাশি একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগও উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবু মিয়া পার্শ্ববর্তী নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও একইভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছেন। তিনিও একজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের নামে প্রতারণা এবং একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুতর আঘাত। তারা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক, শফিকুল ইসলাম ও মোরশেদ আলী বলেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজে নিন্দনীয় এবং এটি পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বড়লই গ্রামের ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার বলেন, এই ঘটনায় একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি অবগত নন। তবে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সামাজিক সচেতনতার অভাবে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, কুড়িগ্রামের এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে সম্পর্ক, প্রযুক্তি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক