জেলি মিশিয়ে দুধ তৈরি, পাবনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জেলি মিশিয়ে দুধ তৈরি, পাবনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 18, 2026 ইং
জেলি মিশিয়ে দুধ তৈরি, পাবনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ছবির ক্যাপশন:

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভয়াবহ এক খাদ্য প্রতারণার ঘটনায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি–এ হুমকি তৈরি হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির অপরাধে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার অষ্টমনিষ্যা ইউনিয়নের সিংগারি গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। অভিযানে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে গোপনে ভেজাল দুধ তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন। এসব দুধে জেলি ও অন্যান্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দুধের মতো পদার্থ তৈরি করা হতো, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রায় ২০০ লিটার জেলি জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। পরে এসব জব্দকৃত উপকরণ জনসম্মুখে ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন ওই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভেজাল দুধ মানুষের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তিনি আরও জানান, জব্দকৃত জেলি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ভেজাল খাদ্য উৎপাদন শুধু আইনগত অপরাধ নয়, বরং এটি একটি গুরুতর সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়া এবং সন্দেহজনক খাদ্য পণ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পাবনার এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে ভেজাল খাদ্যবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে নয়, বাইরে নেওয়া হতো: এম সাখাওয়াত হোসেন

বড় সিদ্ধান্ত কেবিনেটে নয়, বাইরে নেওয়া হতো: এম সাখাওয়াত হোসেন