মৌমাছির পরাগায়নে লিচুর উৎপাদন বাড়ছে চিরিরবন্দরে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মৌমাছির পরাগায়নে লিচুর উৎপাদন বাড়ছে চিরিরবন্দরে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 12, 2026 ইং
মৌমাছির পরাগায়নে লিচুর উৎপাদন বাড়ছে চিরিরবন্দরে ছবির ক্যাপশন:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে লিচু চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন কৃষি সম্ভাবনা, যা স্থানীয়ভাবে ‘মধু বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন লিচুর ফলন বাড়ছে, অন্যদিকে মধু উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বছর উপজেলার প্রায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও মৌচাষিদের প্রত্যাশা, এখান থেকে প্রায় ৩০ টন মধু উৎপাদন হতে পারে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, লিচুর মুকুলে মৌমাছির পরাগায়ন বাড়ায় গাছপ্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কৃষকেরা শুধু লিচু বিক্রি করেই নয়, একই সঙ্গে মধু উৎপাদন থেকেও বাড়তি আয় করতে পারছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা—টাঙ্গাইল, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে মৌচাষিরা চিরিরবন্দরে এসে বাগানে শত শত মৌবাক্স স্থাপন করেছেন। এসব বাক্সে রাণী মৌমাছি ও হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। এতে পুরো এলাকাটি যেন মৌচাষের এক বড় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ফরিদপুর থেকে আসা এক মৌচাষি জানান, প্রতি বছরই তিনি চিরিরবন্দরে মধু সংগ্রহ করতে আসেন। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে মধু সংগ্রহ কিছুটা কম হলেও বাজারদর ভালো থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তিনি। তার মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাষের কারণে উৎপাদন ধীরে ধীরে আরও বাড়বে।

টাঙ্গাইলের মৌচাষিরা জানান, তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রুড ও নিউক্লিয়াস বক্সের মাধ্যমে মৌচাষ পরিচালনা করছেন। নিয়মিত ব্যবধানে প্রতিটি বাগান থেকে তিন থেকে পাঁচ মণ পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা জানান।

অন্যদিকে, আউলিয়া পুকুর ইউনিয়নের এক লিচু চাষি জানান, তার বাগানে প্রায় ২০০টি লিচু গাছ রয়েছে। এবছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং মৌচাষিদের উপস্থিতির কারণে পরাগায়ন ভালো হচ্ছে। ফলে লিচুর ফলন ভালো হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হলে লিচুর উৎপাদন গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। পাশাপাশি রোগবালাই কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কীটনাশকের ব্যবহারও কম লাগে। এতে কৃষকের খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলায় ৪০০টির বেশি মৌবাক্স ব্যবহার করে মধু সংগ্রহ চলছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই খাত থেকে আরও বেশি উৎপাদন ও আয় সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিরিরবন্দরের এই মধু ও লিচু নির্ভর সমন্বিত কৃষি মডেল দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাও গড়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, মৌমাছির পরাগায়ন চিরিরবন্দরের লিচু বাগানে শুধু ফলনই বাড়াচ্ছে না, বরং কৃষিতে তৈরি করছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত হতো প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে:

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত হতো প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে: