দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক বা ‘প্যানিক বায়িং’ না করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে মানুষ একসঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে, এমনকি একই মোটরসাইকেল বারবার গিয়ে তেল নিচ্ছে—এ ধরনের প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করছে। তার মতে, দেশে সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু জনগণ যদি অযথা ভীত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা শুরু করে, তাহলে সেটিই বাস্তব সংকটে রূপ নিতে পারে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, একদিকে আলোচনা ও সমঝোতার সম্ভাবনা আছে, অন্যদিকে সংঘাতও অব্যাহত থাকতে পারে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমাদের জ্বালানি বাজার পরিচালনা করতে হচ্ছে।”
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) প্রয়োজন হতে পারে। এটি নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বাজারে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ রয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় কোনো বিঘ্ন নেই। তবে অপ্রয়োজনীয় চাহিদা তৈরি হলে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনায় চাপ পড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উপদেষ্টা সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গুজব বা আতঙ্কের ভিত্তিতে জ্বালানি সংগ্রহ না করে স্বাভাবিক ব্যবহার বজায় রাখা জরুরি। অযথা চাপ সৃষ্টি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিশু স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচি নিয়েও কাজ করছে এবং স্বাস্থ্য খাতে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
সব মিলিয়ে সরকারের বার্তা হলো—বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই, তবে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে জনগণের সচেতন আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা আতঙ্ক ছড়ালে সেটিই ভবিষ্যতে প্রকৃত সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
কসমিক ডেস্ক