সরকার সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নিলে দেশের বেসরকারি খাত বা প্রাইভেট সেক্টর এক বছরের মধ্যেই নতুন করে গতি ফিরে পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসইভাবে বাড়াতে হলে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সুদের হার কমানো হলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন এবং শিল্প ও ব্যবসা খাতে কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে।
অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেই। উচ্চ সুদের হার উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ গ্রহণকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। ফলে নতুন শিল্প স্থাপন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সুদের হার হ্রাস করা হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকারি অর্থায়ন ও উন্নয়ন ব্যয়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তার ভাষায়, বেসরকারি খাত সক্রিয় না হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা সম্ভব নয়।
সরকারি ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।
অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ আরও বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধিকে ধীরে ধীরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের আশপাশে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি না এলে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে অর্থনীতিতে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা করার সুযোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনীতি যখন দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতির মধ্যে রয়েছে, তখন উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ প্রয়োজন।
তবে তিনি ঘাটতি বাজেটের বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, বাজেটের আকার বড় হওয়া স্বাভাবিক হলেও ঘাটতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির আকার অযৌক্তিকভাবে না বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ মনে করেন, সুদের হার হ্রাস, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক