পরীক্ষার সুযোগে নিয়ন্ত্রণ আনতে চায় সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পরীক্ষার সুযোগে নিয়ন্ত্রণ আনতে চায় সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
পরীক্ষার সুযোগে নিয়ন্ত্রণ আনতে চায় সরকার ছবির ক্যাপশন:

পাবলিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে নতুন ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কেন্দ্র সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে একজন শিক্ষার্থী একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কেউ কেউ একবার নয়, বরং দুই, তিন কিংবা চারবার পর্যন্ত ফেল করার পরও পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরণের সুযোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পরিবর্তে কেবল পাস করানোর প্রবণতা বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে সীমাহীনভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা তার নিজের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, তেমনি পুরো ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই এই বিষয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য দুইবারের বেশি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫৬ ধরনের প্রশ্নপত্র তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ের বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের লক্ষ্য কি শুধুই শিক্ষার্থীদের পাস করানো, নাকি তাদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা?

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শুধু অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পাস করানোর দিকে মনোযোগ দিলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বরং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি মানসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করতে। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর মূল্যায়ন পদ্ধতি, স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ। এই লক্ষ্য পূরণে পরীক্ষার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারাও পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো এবং তাদের শেখার আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা মনে করেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ সীমিত করার এই প্রস্তাবটি শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ব্যাংকিং সময়সূচিতে পরিবর্তন

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ব্যাংকিং সময়সূচিতে পরিবর্তন