বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আজিমদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বগুড়া অঞ্চলে একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল বাহার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার রমনা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় তাকে সেখান থেকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিকল্পিত এই অভিযানে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।
এছাড়া, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নম্বর ১৫। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই মামলার অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরকসহ মোট ১০টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই গ্রেপ্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন নেতার গ্রেপ্তার স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং মামলার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ব্যক্তি বা পদমর্যাদা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য।
সবশেষে বলা যায়, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর গ্রেপ্তার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক