বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং জেলে, বাওয়ালী-মৌয়াল ও পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। বুধবার বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বনাঞ্চলে দস্যুতা দমন এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে যৌথ অভিযান ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাব্বির আলম জানান, গত দেড় বছরে ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৮০টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা এবং ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, দস্যুদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বনাঞ্চলের ভেতরে ও আশপাশের নদী-খালগুলোতে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সাব্বির আলম বলেন, “সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র দস্যুদের আটক করা নয়, বরং স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা।”
কোস্টগার্ডের টহল ও অভিযান কার্যক্রমের ফলে সুন্দরবনের নানান দস্যুমুখী কর্মকাণ্ডের ওপর বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এছাড়া স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও পর্যটকরা নিরাপদে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। সুন্দরবনের নদী-খালগুলোতে নজরদারি জোরদার হওয়ায় অপরাধীদের কর্মকাণ্ড সীমিত হয়েছে।
এই অভিযান সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন ও জলমহলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম চালু থাকবে।
সুন্দরবনের দস্যুতা দমন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় জনগণ এবং পর্যটকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবন-যাপন ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। কোস্টগার্ডের এই অভিযান দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও অপরাধ দমন নীতিকে শক্তিশালী করছে।
কসমিক ডেস্ক