গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা-র পলাশবাড়ী থানা-য় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুব জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান-সহ অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন, রাসেল ও ছানোয়ারসহ কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহরের কালিবাড়ী হাটে একটি সরকারি বরাদ্দকৃত দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে যুব জামায়াতের নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দোকানটিতে তালা দেওয়ার জন্য ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
তবে ওসি তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে পলাশ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ওসির ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।
ঘটনার পর মাহমুদুল হাসান পলাশ-সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহাগ জানান, রাত ১০টার দিকে আহত ৭ পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াত নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পুলিশই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের দুইজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী জানান, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক