চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রাত ১১টার দিকে মো. শামীম নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম ওই রাত তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। রাতের বেলায় কিছু লোক তাকে ডেকে মুরাদপুর ইউনিয়নের তালতলা বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ব্যাপকভাবে মারধর করা হয় এবং পরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন, সম্প্রতি শামীমের সঙ্গে এলাকার কিছু ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া ছিল, তাই এই ঘটনা সংঘটিত হতে পারে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “নিহত শামীমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন দুজনকে রাতেই আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নিহত শামীমের পরিচিতদের সঙ্গে পূর্বের বিবাদ ও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে।
চট্টগ্রামের এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর এমন সহিংস হামলা স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। নিহত নেতার পরিবারও দ্রুত ন্যায়বিচার চাইছে।
মারাত্মক এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলা এলাকায় নিরাপত্তার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীকে ধরতে তৎপর।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিবাদের জেরে কয়েকটি হত্যা এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেছে।
পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, নিহত নেতার সঙ্গে পূর্বে সংঘর্ষে জড়িত কিছু ব্যক্তিই মূল সন্দেহভাজন।
উপসংহারে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কসমিক ডেস্ক