ফুটপাত উচ্ছেদে স্বস্তি, হকার পুনর্বাসনে জোরালো দাবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ফুটপাত উচ্ছেদে স্বস্তি, হকার পুনর্বাসনে জোরালো দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
ফুটপাত উচ্ছেদে স্বস্তি, হকার পুনর্বাসনে জোরালো দাবি ছবির ক্যাপশন:

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। গত বুধবার শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলা এই অভিযানে গুলিস্তান, নিউমার্কেট ও সায়েন্সল্যাব এলাকার ফুটপাত ও সড়ক অনেকটাই দখলমুক্ত করা হয়েছে। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ফুটপাত ফাঁকা হওয়ায় পথচারীরা এখন বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারছেন। দীর্ঘদিন পর অনেকেই স্বস্তি নিয়ে হাঁটার সুযোগ পাচ্ছেন। গুলিস্তান এলাকায় যানজটও তুলনামূলকভাবে কমেছে। অফিসগামী মানুষদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে এই স্বস্তির বিপরীতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় তিন লাখ হকার। তাদের জীবিকা পুরোপুরি নির্ভর করে ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার ওপর। উচ্ছেদের ফলে তারা আয়-রোজগারের পথ হারিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা আবারও ফুটপাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার কিছু সময় পরই হকাররা আবার আগের জায়গায় ফিরে আসেন। কারণ জীবিকার তাগিদে তাদের অন্য কোনো উপায় থাকে না। তবে এবারের অভিযানে কিছু এলাকায় ব্যতিক্রমও দেখা গেছে, যেখানে উচ্ছেদের পরপরই পুনর্দখল হয়নি।

হকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। তাদের মতে, নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিলে তারা সড়ক বা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করবেন না। অনেকেই হলিডে মার্কেট বা নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক বাজার চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। পরিকল্পিত পুনর্বাসন ছাড়া এই সমস্যা বারবার ফিরে আসবে। তারা প্রস্তাব দিচ্ছেন, হকারদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরি করে তালিকাভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি পরিত্যক্ত সরকারি জমিতে স্থায়ী বা অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণ করে তাদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া ‘হলিডে মার্কেট’ বা সাপ্তাহিক বাজারের ধারণাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে কিছু এলাকায় সীমিত আকারে এই বাজার চালু থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। হকাররা মনে করছেন, এ ধরনের বাজার সম্প্রসারণ করলে তাদের জীবিকা নিশ্চিত হবে এবং ফুটপাতও দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, অতীতে হকার পুনর্বাসনের জন্য কিছু স্থান নির্ধারণ করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। আইডি কার্ড প্রদান, প্রশিক্ষণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের মতো উদ্যোগও সফল হয়নি। ফলে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

দুই সিটি করপোরেশনও পুনর্বাসনের বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সীমিত আকারে হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হলিডে মার্কেট ও সান্ধ্যকালীন বাজার চালুর চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে প্রশাসনের মতে, রাজধানীর সব জায়গায় এ ধরনের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট কিছু স্থান নির্বাচন করে সেখানেই হকারদের ব্যবসা সীমাবদ্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে রাজধানীর ওপর চাপ কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার সমাধানে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। হকারদের জীবিকা, শহরের শৃঙ্খলা এবং পথচারীদের সুবিধা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। নাহলে উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের এই চক্র চলতেই থাকবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
কালীগঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ