মতলব উত্তরে হাজারো শিশুর ঈদ কাটে কষ্টে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মতলব উত্তরে হাজারো শিশুর ঈদ কাটে কষ্টে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 18, 2026 ইং
মতলব উত্তরে হাজারো শিশুর ঈদ কাটে কষ্টে ছবির ক্যাপশন:

ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সুখের সময় কাটানো। কিন্তু চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বহু শিশু-কিশোরের জীবনে এই আনন্দের কোনো ছোঁয়া নেই। দারিদ্র্য আর অভাব-অনটনের কারণে তাদের কাছে ঈদও যেন আরেকটি সাধারণ দিনের মতোই।

উপজেলার একলাছপুর, বেলতলী, দুর্গাপুর, চরউমেদ ও ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী প্রায় দুই হাজারের বেশি শিশু-কিশোর এবারও নতুন জামা-কাপড়ের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এসব পরিবার আশ্রয় নিয়েছে এই প্রকল্পগুলোতে।

একলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ বছর বয়সী শিশু মোবারাক উল্যা জানায়, “ঈদে নতুন জামা না পেলে খুব কষ্ট লাগে। কাঁদলেও বাবা কিছু করতে পারে না।” তার মতো অনেক শিশুই ঈদের আনন্দের স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবতা তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবার দিন এনে দিন খাওয়া। তাদের কাছে ঈদের বিশেষ আয়োজন যেমন নতুন পোশাক, পোলাও-কোরমা বা সেমাই—সবই যেন বিলাসিতা।

মজিদা বেগম নামের এক নারী জানান, তার স্বামী নদীতে মাছ ধরে যা আয় করেন, তা দিয়েই পাঁচ সন্তান নিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে। কিন্তু বর্তমানে মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ। ফলে সংসারে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “এখন খাওয়াবো নাকি জামা কিনে দেবো—এই চিন্তায় আছি।”

১৩ বছর বয়সী ইদ্রিস আলী জানায়, সে কখনো ঈদে নতুন জামা পায় না। এতে তার মন খারাপ হলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে কিছু বলতে পারে না।

একইভাবে ৯ বছর বয়সী নার্গিস আক্তার জানায়, এবারের ঈদেও নতুন জামা না পাওয়ায় সে খুবই হতাশ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবারই জেলে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তিনি জানান, সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই সমাজের বিত্তবানদের এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ জন জেলে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, এই সহায়তা দিয়ে একটি পরিবারের সব চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবের সময় এই সংকট আরও বেশি করে অনুভূত হয়।

সার্বিকভাবে, ঈদের আনন্দ যখন দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দেয়, তখন মতলব উত্তরের এসব শিশু-কিশোরের কাছে তা অধরাই থেকে যায়। তাদের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঈদ সামনে, কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদ সামনে, কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়