সোমবার (২৩ মার্চ) Gosairhat Upazila-এর দাসেরজঙ্গল বন্দর সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা ঠাকুর মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকেই ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তবে বর্তমানে দেশ একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
হুইপ অপু আরও বলেন, একসময় কিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের জমি দখল করত। কিন্তু সেই সময় এখন শেষ হয়ে গেছে। এখন আর কেউ কারও অধিকার হরণ করতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দেশ সবার—যেমন তার অধিকার রয়েছে, তেমনি অন্য সব নাগরিকেরও সমান অধিকার রয়েছে।
সামাজিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শরীয়তপুর তার নিজের পরিবারের মতো। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, আধুনিক ও মডেল শরীয়তপুর গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা বর্তমান সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে তিনি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জনগণের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ সরাসরি তার কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি দাবি করেন, ভোটের কালি আঙুল থেকে মুছে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক T I M Mohitul Gani Mintu, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক K M Siddiq, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি Amit Ghatak Chowdhury, গোসাইরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি Biplob Kumar Das, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা Bijon Babu, শামসুর রহমান কলেজের সাবেক অধ্যাপক Bishwanath Das এবং পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক Alauddin Sardar।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন উপজেলার বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, এই আয়োজনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি অঙ্গীকারের একটি সুস্পষ্ট বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক