আনন্দভিত্তিক শিক্ষা শিশুদের বিকাশে সহায়ক: মাসুদ রানা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আনন্দভিত্তিক শিক্ষা শিশুদের বিকাশে সহায়ক: মাসুদ রানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 14, 2026 ইং
আনন্দভিত্তিক শিক্ষা শিশুদের বিকাশে সহায়ক: মাসুদ রানা ছবির ক্যাপশন:

শিশুদের শিক্ষার ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আনন্দভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি। শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুললে শিশুদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা তৈরি হয় এবং তারা নিজেরাই নিজেদের বিকাশের পথ খুঁজে নিতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন মাসুদ রানা চৌধুরী

তিনি বলেন, জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা পদ্ধতি স্বল্পমেয়াদে কিছু ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর হয় না। বরং এতে শিশুদের সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা শেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই শিক্ষা হতে হবে এমন, যা শিশুর মনকে আনন্দ দেয় এবং তাকে নতুন কিছু জানার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

শিক্ষানুরাগী মাসুদ রানা চৌধুরী ‘জীবনমুখী শিক্ষা’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এমন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন, যেখানে বইয়ের বাইরে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ থাকবে। এতে শিশুরা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বরং জীবনের জন্য শিখবে।

সম্প্রতি একটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সাহসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শিশুরা গান, কবিতা, ছড়া, নৃত্য এবং ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’সহ বিভিন্ন সৃজনশীল আয়োজনে অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিভা প্রকাশ করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশও ঘটছে। শিশুদের এমন প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একটি সফল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে শিশুদের জন্য একটি ইতিবাচক ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

এই বক্তব্য তিনি দেন নগরীর ২য় মুরাদপুর এলাকায় আয়োজিত একটি বিদ্যালয়ের প্রথম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যা আয়োজনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহসানুল কবীর, ডা. হাফসা হাসিব, রোখসানা ফেরদৌস মজুমদার এবং ডা. নুরুল আলম খান। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করে।

উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ সালে রফিকুল ইসলাম সোহেল-এর তত্ত্বাবধানে। তিনি একজন হুইলচেয়ার সার্ভাইভার হয়েও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগ সমাজে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, আনন্দময় ও সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং মানবিক করে গড়ে তুলতে এই ধরনের শিক্ষা উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পড়াশোনা-খেলাধুলার চেয়ে রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি: স্

পড়াশোনা-খেলাধুলার চেয়ে রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি: স্