প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আপাতত কালো টাকা বৈধ করার কোনো সুযোগ না রাখায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এটি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের একটি ইতিবাচক বার্তা।
বাজেট ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, বাজেটে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক ‘কালো টাকা সাদা করার’ বিধান অন্তর্ভুক্ত না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অজুহাতে এই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই এই ধরনের অনৈতিক সুযোগ পুনরায় বাজেটে যুক্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গেও মতামত দিয়েছে টিআইবি। বাজেটে আগামী অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থাটি বলছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সীমিত আয়ের অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করা না হলে তাদের পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
তবে টিআইবি একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। তাদের দাবি, শুধুমাত্র সেইসব কর্মচারীর জন্যই নতুন বেতন কাঠামো প্রযোজ্য হওয়া উচিত, যারা নিজের ও পরিবারের সম্পদের তথ্য নিয়মিতভাবে হালনাগাদ ও প্রকাশ করবেন।
টিআইবি মনে করে, এতে সরকারি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া বাজেটে কিছু নিত্যপণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও কমাতে সহায়তা করবে।
তবে বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, বাজেট কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এর বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে টিআইবির মূল্যায়নে, বাজেটে দুর্নীতিবিরোধী কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও সুশাসন ও বাস্তবায়ন কাঠামোতে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক