দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে আগামী সাত বছরে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে পানিসম্পদ খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর অনুকূলে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার প্রায় ১২০টি উপজেলা এর সুফল ভোগ করবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
বাজেট বক্তৃতায় উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছিলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত ও সার্বিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সেচ সুবিধা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং কৃষি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
কসমিক ডেস্ক