দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামের এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিনই দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি চালু করা হবে।
বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে সাতটি ইভেন্ট নিয়ে এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করার একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ক্রীড়া উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তারা আরও মনোযোগ দিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করতে পারছেন।
তিনি আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ক্রীড়া বৃত্তি চালু করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের সঠিক পথে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় তিনি অতীত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, উন্নয়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অনেক প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, পূর্ববর্তী সময়ের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে স্টেডিয়ামটি এখন জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্টেডিয়ামের উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই স্টেডিয়ামটি ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায়।
এছাড়া দেশের ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গত এক বছরে যারা দেশের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পদক অর্জন করেছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০০ জনকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সামগ্রিকভাবে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি দেশের ক্রীড়া খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।