রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। আগুনটি বনানী কাঁচাবাজার সংলগ্ন ৪৪ নম্বর ভবনের ১১ তলায় লাগে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। ফলে মোট পাঁচটি ইউনিট সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আগুনের উৎস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আশপাশের ইউনিটগুলোও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ করা হবে।
ঢাকা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহুতল ভবনে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে বনানীর মতো বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণেই দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস সাধারণত ভবনের ভেতরে তল্লাশি চালায়, যাতে কেউ আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো কারণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিনা তা তদন্তের আওতায় আনা হয়।
এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিয়মিতভাবে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকেন। পানির পাইপ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের মাধ্যমে তারা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সহায়তা নিতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো চূড়ান্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া না গেলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে