বয়স যেন তার কাছে কোনো বাধাই নয়—৭৬ বছর বয়সেও বিশ্বজুড়ে ম্যারাথন দৌড়ে অনন্য নজির গড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি তপনতোষ চক্রবর্তী। বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ সাতটি অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজর সম্পন্ন করে তিনি অর্জন করেছেন বিরল কৃতিত্ব।
সম্প্রতি তিনি Tokyo Marathon–এ অংশ নেন, যা এই সিরিজের অন্যতম আসর। অন্যান্য মেজরের মধ্যে রয়েছে Boston Marathon, London Marathon, New York City Marathon, Berlin Marathon, Chicago Marathon এবং Sydney Marathon।
২০২৫ সালে এই সাতটি ম্যারাথন সম্পন্ন করে তিনি অর্জন করেন ‘সিক্স-স্টার মেডেল’—যা বিশ্বের ছয়টি প্রধান মেজর সম্পন্নকারীদের দেওয়া হয়। এমনকি ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত চার বা তার বেশি সিক্স-স্টার মেডেলধারীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ দৌড়বিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
তপনতোষের অর্জন শুধু এই মেজরগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাত মহাদেশে তিনি ইতোমধ্যে ৭০টিরও বেশি ম্যারাথন ও আলট্রাম্যারাথন শেষ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে চারটি অ্যাডভেঞ্চার ম্যারাথন—এভারেস্ট, বিগ ফাইভ, কমরেডস এবং অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তার Everest Marathon–এ অংশগ্রহণ। বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অনুষ্ঠিত এই দৌড় শুরু হয় এভারেস্ট বেজক্যাম্প থেকে এবং শেষ হয় নামচে বাজারে। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় অক্সিজেনস্বল্পতার মধ্যেও তিনি সফলভাবে দৌড় শেষ করেন।
এছাড়া তিনি অংশ নেন Antarctica–এর ম্যারাথনেও, যেখানে পিচ্ছিল বরফের ওপর দৌড়ানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি থামেননি।
তপনতোষ জানান, তার দৌড়জীবনের শুরুটা ছিল একেবারেই হঠাৎ। ১৯৯৯ সালে প্রথম ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে উন্নত করে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
চাঁদপুরের মতলবে জন্ম নেওয়া তপনতোষ বর্তমানে কানাডার ক্যালগেরিতে বসবাস করছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি তেল ও জ্বালানি খাতে গবেষণা প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৬ সালে অবসর নেওয়ার পরও থামেননি—বরং দৌড়ের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে চলেছেন।
তার এই যাত্রা সহজ ছিল না। ২০২১ সালে হৃদরোগসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। এমনকি হার্টে স্টেন্ট বসানোর পরও আবার ফিরে এসেছেন দৌড়ের ট্র্যাকে।
আগামী ২০২৬ সালে তিনি আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন—সাতটি মেজরের পাশাপাশি কেপটাউন ম্যারাথনসহ মোট ৯টি ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তপনতোষ চক্রবর্তীর এই অনন্য কৃতিত্ব শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে বয়স কখনোই বাধা হতে পারে না।
কসমিক ডেস্ক