অকটেন নিয়ে বন্দরে ভিড়ল ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অকটেন নিয়ে বন্দরে ভিড়ল ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 9, 2026 ইং
অকটেন নিয়ে বন্দরে ভিড়ল ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ ছবির ক্যাপশন:

দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ আরও শক্তিশালী করতে মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের বহির্নোঙর ব্রাভো পয়েন্টে নোঙর করে।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এটি পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভেড়ানোর কথা রয়েছে। বার্থিং সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পাইপলাইনের মাধ্যমে অকটেন খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে।

প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাহাজটি ইতোমধ্যে সফলভাবে বহির্নোঙরে পৌঁছেছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জেটিতে ভেড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, এই ২৭ হাজার টন অকটেন খালাস হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ ছাড়াও আরও কয়েকটি জ্বালানি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে অবস্থান করছে অথবা আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি আমদানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে। মার্চ মাসে মোট ৩৩টি জ্বালানি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ ছিল বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলবাহী, ৮টি এলএনজি (LNG) এবং ৯টি এলপিজি (LPG) বহনকারী জাহাজ ছিল।

এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আরও পাঁচটি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ এপ্রিল এলপিজি বহনকারী ‘মর্নিং জেন’ এবং এলএনজি বহনকারী ‘এমেই’ বন্দরে আসার সূচি রয়েছে।

নিয়মিত বিরতিতে অকটেন, এলএনজি ও এলপিজি আমদানি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রমজান ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তিও কমে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে না। পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

সব মিলিয়ে, একের পর এক জ্বালানি জাহাজের আগমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এর ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স