বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে দাম কমে ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের দিকে এগোচ্ছে তেলের বাজার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.১৭ ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ০.৮ শতাংশ কম। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৪৬ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার খবর এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থার সঞ্চার হয়েছে।
যদিও আগের দিন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছিল, তবে পুরো সপ্তাহের হিসেবে বাজার এখন নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম এখন অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে একতরফা বলে উল্লেখ করেছে। এই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে এবং তা ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে আগামী মাসগুলোতে তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধ, কূটনীতি এবং সরবরাহ—এই তিনটি উপাদানই দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কসমিক ডেস্ক