দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন—বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩—এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট নেওয়া শুরু হয়, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনে এটি একটি উপনির্বাচন, যেখানে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল-আমিন তালুকদার। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৩৫টি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন, যারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৬ আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, যেখানে প্রায় ২৫০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৮ প্লাটুন, র্যাবের ১০টি টিম, পুলিশের ১ হাজার ৩২৭ সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপির ১ হাজার ৯৯০ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আগে স্থগিত করা হয়েছিল। এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর প্রার্থী মিজানুর রহমান।
শেরপুর-৩ আসনে একটি পৌরসভা এবং ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
এই আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৯টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৫১টি।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শেরপুর-৩ আসনেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মাঠে রয়েছে।
প্রশাসনিক দিক থেকেও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন পূর্বে স্থগিত করা হয়েছিল জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হলে আজ ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দুই আসনেই ভোটারদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।