দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিতর্কিত Scarborough Shoal এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে China, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে চীন জাহাজ মোতায়েন এবং ভাসমান বাধা স্থাপন করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, সেখানে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি কোস্টগার্ড জাহাজ এবং একটি ভাসমান ব্যারিয়ার অবস্থান করছে। ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা এসব চিত্রে চীনের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই পদক্ষেপকে কার্যত একটি অনানুষ্ঠানিক অবরোধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি আরও জোরালো করতে চাইছে বেইজিং।
অন্যদিকে, নিজেদের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়েছে Philippines। দেশটি ইতোমধ্যে কোস্টগার্ড ও মৎস্য সহায়তা জাহাজ পাঠিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজ প্রায়ই ফিলিপাইনের জেলেদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র Jay Tarriela জানান, স্কারবরো শোলের প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বাধা স্থাপন করেছে চীন। তিনি আরও বলেন, শোলের ভেতরে ও বাইরে একাধিক চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছে, যা কার্যত প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
স্কারবরো শোল, যা ফিলিপাইনে ‘বাহো দে মাসিনলোক’ এবং চীনে ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ’ নামে পরিচিত, একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদসমৃদ্ধ এলাকা। এটি Philippines-এর একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও China দীর্ঘদিন ধরে এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।
বিরোধের এই ইতিহাস নতুন নয়। ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থার পর থেকে চীন কার্যত এই শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই এলাকায় United States ও Philippines যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা চীনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া গত বছর চীন স্কারবরো শোল এলাকায় একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এটিকে ‘দখল বৈধ করার কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিও এই বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত দক্ষিণ চীন সাগর সংক্রান্ত এক রায়ে ফিলিপাইনের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং চীনের কিছু কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেয়। তবে স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নটি ওই রায়ের আওতায় ছিল না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ চীন সাগর আবারও একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলের গুরুত্ব শুধু মৎস্যসম্পদ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামরিক কৌশলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, স্কারবরো শোলে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং ফিলিপাইনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই বিরোধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কসমিক ডেস্ক