মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বজ্রপাতে ফুলেন নেসা (৫০) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যার পরে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পূর্ব জায়গীর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফুলেন নেসা ওই গ্রামের আলমগীর বেপারীর স্ত্রী। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ৩টার পর থেকেই কালকিনি এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। দিনভর আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই ঘরের বাইরে কাজকর্ম কমিয়ে দেন। তবে সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টির মধ্যেই নিজ বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন ফুলেন নেসা। ঠিক সেই সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফুলেন নেসাকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্না ও শোকের মাতম নেমে আসে।
লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, সন্ধ্যার পরে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ফুলেন নেসা আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া খারাপ থাকলেও গ্রামীণ জনজীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ থেমে থাকে না। অনেক সময় মানুষ ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ির আশপাশে কাজ করতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিনও বজ্রপাতে ফুলেন নেসার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তার এই নিশ্চিতকরণে ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবেও নথিভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমের পাশাপাশি কালবৈশাখী বা মৌসুমি দুর্যোগের সময় বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, বাড়ির উঠান, জলাশয়ের আশপাশ কিংবা গাছের নিচে অবস্থান করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে অনেকেই আবহাওয়া খারাপের সময়েও কৃষিকাজ, গৃহস্থালি কাজ বা বাইরে চলাচল অব্যাহত রাখেন, ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা, খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা, বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকা এবং বৃষ্টি বা ঝড়ের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বাইরে না বের হওয়া জরুরি। সচেতনতার অভাব এবং তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ঘটে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি জনসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ফুলেন নেসার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই বেদনাদায়ক ঘটনা। এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং দ্রুত আশ্রয়ে যাওয়া জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক