বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগেই আমিনুল হক বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি একই অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, নির্বাচনে অংশ না নেওয়া কিছু ক্লাবের প্রতিনিধি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) বিসিবির নির্বাচনের স্বচ্ছতা চ্যালেঞ্জ করে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এনএসসি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলবে।
তবে এই প্রক্রিয়াকে বিসিবি সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে। প্রয়োজনে তারা আইসিসির শরণাপন্ন হওয়ার কথাও ভাবছে।
বিসিবির এমন অবস্থানের জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দল সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার কারণ অনুসন্ধানেও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারিনি। কেন এমন হয়েছে, সেটি তদন্ত করে দেখা দরকার।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা ব্যর্থতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, “কোথায় সমস্যা ছিল, কেন আমরা বিশ্বকাপে যেতে পারলাম না—এসব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে এবং যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বিসিবির অনেক পরিচালক এই তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
এ বিষয়ে বিসিবি ইতোমধ্যে একটি বিবৃতিও দিয়েছে, যেখানে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, অতীতেও ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের নজির রয়েছে। তার মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্যই সামনে আসবে।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
এদিকে জানা গেছে, বিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও এনএসসি গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকারি তদন্ত, অন্যদিকে বোর্ডের আপত্তি—দুই পক্ষের অবস্থান ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক