সারা দেশের মতো গোপালগঞ্জ জেলাতেও শুরু হয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। শনিবার বিকেলে গোপালগঞ্জ ফুটবল স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেলিমুজ্জামান মোল্লা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এস এম জিলানী, ডা. কে এম বাবর এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুউজ্জামান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন। ডা. কে এম বাবর অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে এস এম জিলানী বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক হাতিয়ার। এর মাধ্যমে যুব সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি সেলিমুজ্জামান মোল্লা তার বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা এখন একটি সম্ভাবনাময় পেশা। একজন মেধাবী খেলোয়াড় যেন তার দক্ষতাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের ইতিহাস বেশ পুরোনো। জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে আবারও নতুন করে প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম তারেক সুলতানা। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা।
প্রথম দিনের খেলায় ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বালক ও বালিকা উভয় বিভাগেই মুকসুদপুর উপজেলা দল কাশিয়ানী উপজেলা দলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করছেন, এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে গ্রাম পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। এতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
সব মিলিয়ে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
কসমিক ডেস্ক