সিলেটে হামের প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রায় প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।
রবিবার (১০ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে আকরামুল। তার বয়স ছিল ৯ মাস। অন্য শিশুটি হলো সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া গ্রামের ইমরান মিয়ার ছেলে সাইফান, যার বয়স ছিল ৮ মাস।
জানা গেছে, আকরামুল চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। অন্যদিকে সাইফান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। শিশু দুটির মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে এর আগে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেটে এখনো হাম শনাক্তের জন্য পূর্ণাঙ্গ ল্যাব সুবিধা না থাকায় রোগীদের উপসর্গের ভিত্তিতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে রোগী হাম আক্রান্ত কি না।
এদিকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়তেই রয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড করা হাসপাতালটিতে নির্ধারিত শয্যার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন।
রবিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিল ১১৪ জন শিশু। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করলেও বাড়তি রোগীর কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে শিশুদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কসমিক ডেস্ক