জামায়াতে ইসলামী আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, যেকোন মুল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, কারো রক্ত চোখ পাত্তা দিবো না। স্বাধীনতার পর থেকে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানী করেছে ১২ তারিখের নির্বাচনে তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।
বুধবার দুপুর ২টায় তিনি হেলিকপ্টার যোগে এসে লালমনিরহাট তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জামায়াতের ১১দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তিস্তা নেয়াতম হোয়ার কথা, কিন্তু তা অভিশাপে পরিমত হয়েছে। এখন তিস্তাকে জীবন দিবো । তিস্তা হবে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। নদীভাঙনের কবলে কাউকে নিশ্ব হতে দেব না।
জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, মতলববাজ রাজনীতির কবর রচনার সময় এসেছে। ৫৪ বছরে যারা বেইমানী করেছে এখন তাদের দূর করার সময়। রাজনীতির নামে ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি নয়। অপরাজনীতিির অবসারন ঘটাবো। ১২ তারিখ নির্ধারণ করবে ১৩ তারিখের নতুন সূর্যের ভাগ্য। তরুনদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেব। বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাইবো না।
তিনি বলেন, বুড়িমারি স্থরবন্দর আধুকায়ন হবে। বঞ্চিত অঞ্চল থেকে উন্নয়নের সূচনা হবে। বসন্তের কোকিল না। বিপদের সময় দেশ ছেড়ে চলে যাবো না। ফ্যসিবাদরা যন্ত্রনা হতে মুক্ত হতে দেশ ছেড়ে চলে যায়। মানুষ অনেক দেখেছে। আমরা ইহজগতের বন্ধু, পরজগতেরও বন্ধু হবো।
এখানে সব ধর্মের মানুষ থাকবে। কোন বৈষম্য হবে না। থাকবে না মাইনরিটি মেজরিটি শব্দ। অন্য ধর্মের মানুষকে বুকের চাদরে ধরে রাখবো। ন্যায় বিচার কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন উপযুক্ত নয়। সেজন্য তারা দূর্নীতি করে। নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মায়ের গায়ে হাত দিতো দেবো না, প্রয়োজনে জীবন দিবো। তাদের শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারা সবখানে নিরাপদ থাকবে। গনভোটে হ্যাঁ বলবেন। জামাতারে বিজয় চাই না ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। হা ভোট মানে জনতার বিজয়।
শেষে লালমনিরহাট ও নিলফামারী জেলার সাতজন জামায়াতের প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমীর।
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও লালমনিরহাট সদর ৩আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াতসহ ১১দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এর আগে জামায়াতে আমীর সভাস্থলে পৌছার পূর্বে কানায় কানায় পূর্ণ হয় হেলিপ্যাট মাঠ ও আশপাশের এলাকা। সকাল থেকে পুরো তিস্তা ব্যারাজ এলাকা জামায়াত শিবির সহ ১১দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। সকাল থেকে খন্ড খন্ড মিছিলে, কেউ পায়ে হেঁটে আবার কেউ অটো - ভ্যান বা বাস ট্রেন যোগে সভা স্থলে উপস্থিত হন। পরে হেলিকপ্টার যোগে দুপুর ২টায় পৌছেই বক্তব্য দেন ডাঃ শফিকুর রহমান।
জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট