পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে প্রায় ১,৮০০ জন আটক রয়েছে এবং তাদের পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তার ভাষায়, “রোজ ওপারে পাঠানো হচ্ছে” এবং এই প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে আটক রাখার পরিবর্তে সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থা, বিশেষ করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ধরো আর বিএসএফকে দাও, নো জেল”—অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বসবাসরত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের নাগরিকদের কোনো ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই, এবং ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে বেআইনি অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।
এই বক্তব্যকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করছে, অন্যদিকে শাসকপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে, যা সাম্প্রতিক এই বক্তব্যের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে।
কসমিক ডেস্ক