পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল অভিযোগ করেছেন যে বিগত সরকারের সময় খাল খননের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে সেই প্রকল্পগুলোর কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নাব্যতা হারানো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। খালটি বহেরাতলা বাজার থেকে আলগী বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ।
তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। কৃষির উন্নয়নের জন্য সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল ও জলাশয় সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
রুহুল আমিন দুলাল আরও বলেন, “খাল খননের জন্য আগেও বরাদ্দ ছিল, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব কাজ হয়নি। বর্তমান সরকার সেই সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কৃষি সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পুনঃখননের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজি, সাবেক সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুজ্জামান আবীরসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় কৃষকেরাও আশা প্রকাশ করেছেন যে খালটি পুনরায় সচল হলে তাদের জমিতে পানি সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় খাল ও জলাশয় পুনঃখনন শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কসমিক ডেস্ক